নিজস্ব প্রতিবেদক ।বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কাউনিয়া, কোতোয়ালি থানা ও গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দায়িত্ব পালনকালে নানা অভিযোগে সমালোচিত পুলিশ কর্মকর্তা আজিমুল করিমকে ফের মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ পদে তাকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার খবরে স্থানীয় সচেতন মহল ও কথিত ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
আজিমুল করিমের বিরুদ্ধে জমি দখলে সহযোগিতা, গভীর রাতে মৎস্যজীবীদের ধরে নিয়ে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, নারীসংক্রান্ত বিতর্ক এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হয়রানিসহ বিভিন্ন সময়ে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।অভিযোগ উঠেছে বিএমপি দুই থানার দ্বায়িত্বে থাকাকালীন অবস্থায় এক নারীর সাথে স্বক্ষ্যতা করে অশ্লীল ভঙ্গিতে ভিডিও কলে কথা বলার একটা ভিডিও সাংবাদিকের কাছে চলে আসায় নানা বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
গত ৩০ জুলাই ২০২০সালে বরিশালের সাপানিয়া এলাকার বাসিন্দা জামাল শরীফ পুলিশ মহাপরিদর্শক, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি বরাবর পৃথক অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগে জামাল শরীফ দাবি করেন, তার ক্রয়কৃত জমি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত হাদিস মীরের লোকজন দখল করে নেয় এবং এতে কাউনিয়া থানার তৎকালীন ওসি আজিমুল করিম সহযোগিতা করেন। তবে অভিযোগ আছে নানা বিতর্কের কারনে একজন কর্মকর্তাকে বরিশাল মেট্রোপলিটন রেশনের দ্বায়িত্বে দেওয়া হয়েছে।অভিযোগ আছে ২০১৮সালে বরিশাল মেট্রোপলিটন যোগদান করে এখন পর্যন্ত বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় কর্মরত আছেন।তবে দীর্ঘদিন এক জায়গায় কর্মরত থাকায় নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মৎস্যজীবীদের বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগ
আজিমুল করিমের বিরুদ্ধে গভীর রাতে দুই মৎস্যজীবীকে ধরে নিয়ে বিবস্ত্র করে মারধরের অভিযোগও রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ—পুলিশ কমিশনার (উত্তর) বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
কাউনিয়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, “স্বেচ্ছাচারিতার একটা মাত্রা থাকা দরকার। আইনকানুন তো মানতে হবে। মানুষের সহায়তা করাই পুলিশের মূল কাজ।”
এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও প্রশাসনিক হয়রানিতে আজিমুল করিমের ভূমিকা ছিল—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা।তিনি ফ্যাসিস্টের অনুসারী হয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আটক বাণিজ্যের অভিযোগ কম ছিলনা তবে ফ্যাসিস্ট আ’লীগের অনুসারীকে ফের নগর ডিবির ওসি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক নেতা কর্মী।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অতীতে যেসব অভিযোগ উঠেছিল সেগুলোর বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করে একজন কর্মকর্তাকে পুনরায় ডিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইউনিটের দায়িত্ব দেওয়া হলে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো.আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, “পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে সেটা আমরা তদন্ত করি। তদন্তের পর যে রিপোর্ট আসবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে আজিমুল করিমকে পুনরায় ডিবির ওসি হিসেবে পদায়নের পর তার বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।