• ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে পশুর খামার অভিযোগের তীর বিসিসির সিইও’র দিকে -সরকারি প্রকল্পের জমি দখল ॥ কর্মচারী দিয়ে পশু পালন ॥ স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরিবেশদূষণ ও আইনি প্রশ্নে উদ্বেগ

দখিনের বার্তা
প্রকাশিত এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১৪:৩৬ অপরাহ্ণ
বরিশালে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে পশুর খামার অভিযোগের তীর বিসিসির সিইও’র দিকে -সরকারি প্রকল্পের জমি দখল ॥ কর্মচারী দিয়ে পশু পালন ॥ স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরিবেশদূষণ ও আইনি প্রশ্নে উদ্বেগ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

-সরকারি প্রকল্পের জমি দখল ॥ কর্মচারী দিয়ে পশু পালন ॥ স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরিবেশদূষণ ও আইনি প্রশ্নে উদ্বেগ

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রূপাতলীর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গড়ে তোলা এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নির্ধারিত জমি দখল করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে দুম্বা, ছাগল ও ভেড়ার খামার।

অভিযোগ রয়েছে, খামার পরিচালনার জন্য সিটি কর্পোরেশনের বেতনভুক্ত অন্তত চারজন কর্মচারীকে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরাসরি সরকারি সম্পদের অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি প্লান্ট ভবনের পাশের খোলা জায়গায় ঘাস চাষ করিয়ে পশুখাদ্যের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মতো সংবেদনশীল স্থাপনার পাশে পশু পালন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পশুর বর্জ্য থেকে উৎপন্ন ব্যাকটেরিয়া, অ্যামোনিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে, যা শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া, বৃষ্টির পানির সঙ্গে পশুর মলমূত্র মিশে প্লান্টের পানি উৎস দূষিত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এতে পুরো নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থাই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ভিতরে পশু পালন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে বসবাস করা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জায়গা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করায় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্লান্টের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার ব্যাহত হলে নগরবাসীর জন্য পরিকল্পিত পানি সরবরাহও বিঘ্নিত হতে পারে।

এছাড়া, সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা সরকারি অর্থের অপচয় এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে- সরকারি সম্পত্তি দখল ও অপব্যবহার দণ্ডবিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া দুর্নীতির শামিল। পরিবেশ দূষণ ঘটালে জরিমানা বা কারাদণ্ড হতে পারে।
সিটি কর্পোরেশন আইন অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

বিসিসির স্বাস্থ কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, “আমি এসব লালন-পালনের সঙ্গে জড়িত নই। পশুগুলো প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী স্যারের।”

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “এসব বিষয় নিয়ে আপনাদের মাথাব্যথা কেন? যা পারেন করেন।” তার এই মন্তব্যে বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন আরও বেড়েছে।

বরিশাল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন- অভিযোগ প্রমানিত হলে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “আমি বিষয়টি আগে জানতাম না। আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের এমন অপব্যবহার শুধু অনিয়ম নয়, বরং এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতার বড় ব্যর্থতার উদাহরণ। তারা দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং প্রকল্প এলাকা পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে, এই অভিযোগের শেষ পরিণতি কী দাঁড়ায়।