• ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশালে লীগের সঙ্গে আঁতাত করা সেই নেতারা ফের বিএনপিতে

দখিনের বার্তা
প্রকাশিত এপ্রিল ১১, ২০২৬, ২৩:৫৯ অপরাহ্ণ
বরিশালে লীগের সঙ্গে আঁতাত করা সেই নেতারা ফের বিএনপিতে
সংবাদটি শেয়ার করুন....

 

স্টাফ রিপোর্টার:
বরিশাল বিএনপিতে দ্বৈত রাজনীতির অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। দলীয় নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে চলার অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন নেতার আবার বিএনপিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কঠিন সময়ে যারা দল থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছিলেন, তারাই এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের পর আবার বিএনপিতে সক্রিয় হতে চাইছেন। বিষয়টিকে তারা দলের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ছবিতে দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে কয়েকজন সাবেক বিএনপি নেতাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। যাদের মধ্যে রয়েছেন— বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি কে.এম শহিদুল্লাহ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলতাব মাহামুদ শিকদার এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মো. ইউনুস মিয়া। এ সময় বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুছ (এমপি) সহ আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, দলের দুঃসময়ে যারা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন, তারা এখন দলের সুদিনে আবার সুবিধা নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাদের মতে, যদি ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের পরিবর্তে অর্থ ও প্রভাব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দলের আন্দোলন-সংগ্রাম দুর্বল হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে কেউ সুবিধাবাদী হিসেবে দলে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের বিষয়ে হাই কমান্ড গুরুত্ব দেবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।