• ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে পুলিশের উপস্থিতে সেনা সদস্যের লাথিতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

দখিনের বার্তা
প্রকাশিত মার্চ ২৪, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
বরিশালে পুলিশের উপস্থিতে সেনা সদস্যের লাথিতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের
সংবাদটি শেয়ার করুন....

 

পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশ মীমাংসা চলছিল। এ সময় খোরশেদের পক্ষের একজন বৈঠকের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হন বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হাওলাদারের পক্ষের লোকজন। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাক্‌বিতণ্ডা শুরু হয়ে একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের মধ্যে জাহাঙ্গীরের বড় ছেলে, সেনা সদস্য নাঈম হাওলাদার প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বৃদ্ধ খোরশেদ সিকদারের অণ্ডকোষে লাথি মারেন। এতে ঘটনাস্থলেই খোরশেদ সিকদারের মৃত্যু হয়।

রবিবার বিকেলে মেঘনা তীরবর্তী মেহেন্দিগঞ্জ পৌর এলাকার দক্ষিণ চরহোগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খোরশেদ রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার একটি ট্যানারিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন।

বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামলার আসামীরা পলাতক। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আসামীদের একজন সেনা সদস্য বলে জেনেছি। সেই বিষয়টি যাচাইবাছাই চলছে। সে অনুযায়ী পরবর্তিতে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, নিহতের অণ্ডকোষে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তবে ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এই ঘটনার পর জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারন সম্পাদকের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। সেই ঘটনার পর রবিবার রাতেই নিহত খোরশেদ সিকদারের মেয়ে নাজমা বেগম বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের।

আসামীরা হলেন, জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৬০), তার স্ত্রী মাহামুদা বেগম(৪৫), ছেলে সেনা সদস্য নাঈম হাওলাদার(৩২), জাফর হাওলাদার(২৬) ও তুহিন হাওলাদার(২২)।

প্রত্যক্ষদর্শী তোতা সিকদার বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে বিল্ডিংয়ের সেন্টারিং মালামাল বাবদ বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর নিহত খোরশেদের কাছে ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবী করেন।

এই ঘটনায় বিএনপি নেতা মেহেন্দীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুপক্ষের সালিসদারদের নিয়ে রবিবার বিকেলে সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

এতে মেহেন্দীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় খোরশেদের পক্ষের একজন বৈঠকের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হন জাহাঙ্গীরের পক্ষের লোকজন।

এ নিয়ে দুপক্ষের বাক্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। এতে খোরশেদ প্রতিপক্ষের হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

নিহতের ছেলে শহীদ শিকদার বলেন, ২০ বছর আগেই দেনা-পাওয়া চুটে গেছে। হঠাৎ করেই জাহাঙ্গীর সিকদার তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা পাওনার কথা জানান। এতে আমার পরিবার হতবাগ হন। তার পর আমার পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন।

রবিবার পুলিশের উপস্থিতিতেই সালিশ মীমাংসার এক পর্যায়ে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাবার অণ্ডকোষে লাথি মাড়েন। অপর আসামীরা লাঠি আর চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন।

মেহেন্দীগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্যসচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দিনু মিয়া বলেন, ‘মারামারির খবর পাওয়ামাত্র জাহাঙ্গীরকে দল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি র মাধ্যমে এ তথ্য গণমাধ্যমে পাঠাব। আমরা কিছুতেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেব না।