নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কেডিসি কলোনিতে প্রকাশ্যে বসছে মাদকের হাট। প্রায় অর্ধশত মাদক বিক্রেতার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পুরো কলোনিকে মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। শুধু খুচরাই নয়, এখান থেকে পাইকারি হিসেবেও বেচাকেনা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ মাদক। তথ্যমতে, এই হাটে দৈনিক গড়ে কমপক্ষে ২০ কেজি গাঁজা এবং কয়েক হাজার পিস ইয়াবা বিক্রি হয়। কেনাবেচার পাশাপাশি মাদক সেবনের অন্যতম প্রধান নিরাপদ স্পট হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে এলাকাটি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে এই এলাকায় নির্বিঘ্নে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চললেও বর্তমানে তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। কলোনির এমন কিছু পরিবার রয়েছে, যেখানে বাবা-মা থেকে শুরু করে পরিবারের প্রতিটি সদস্যই মাদক কারবারের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। দিনের বেলায় বেচাকেনা কিছুটা কম হলেও সন্ধ্যা নামার পরপরই জমজমাট হয়ে ওঠে এই মাদকের বাজার, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। কেডিসি কলোনির এই মাদকের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের এলাকাতেও। কলোনি ছাড়িয়ে সংলগ্ন বেলস পার্ক, মডেল কলেজসহ আশপাশের সড়কগুলোতে হরহামেশাই মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।
কলোনির মাদক কারবার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পুরো ব্যবসাটি পরিচালনা করছে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত শীর্ষ অপরাধী। এদের মধ্যে নীলু, রাসেল, মধু, রুনু, মানিক, পারু, রুবেল, চিয়া নাজু ও আসমা অন্যতম। এদের প্রত্যেকের অধীনে সর্বনিম্ন ৫ থেকে ১৫ জনের সুসংগঠিত টিম রয়েছে। টিম প্রধানের সংকেত বা নির্দেশে ক্রেতার নির্দিষ্ট স্থানে মাদক পৌঁছে দেওয়াই এসব টিমের মূল কাজ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ মিহির চন্দ্র বলেন, “আমাদের বর্তমান পুলিশ কমিশনার স্যার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। স্যারের স্পষ্ট নির্দেশে আমরা মাঠে কাজ করছি। কেডিসি কলোনিতে কোনো চিহ্নিত বা নতুন ব্যবসায়ীকে মাদক ব্যবসা চালাতে দেওয়া হবে না। অপরাধীদের দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”