• ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

দখিনের বার্তা
প্রকাশিত মে ২০, ২০২৬, ২৩:৪৫ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দৈনিক দখিনের বার্তা এর ২০ মে ২০২৬ খ্রি. তারিখের প্রকাশিত “বরিশালের সরকারি হিজলা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুস সালামের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ” শিরোনামের সংবাদের প্রতিবাদঃ

‘দৈনিক দখিনের বার্তা’ পত্রিকার ২০ মে ২০২৬ তারিখের অনলাইনে “বরিশালের সরকারি হিজলা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুস সালামের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনে আমাকে জড়িয়ে যে সকল তথ্য ও অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট, কাল্পনিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রকৃত সত্য এই যে, আমি প্রফেসর এইচ এম আবদুস সালাম, ২৪/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখে সরকারি হিজলা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করি। যোগদানের পর প্রশাসনিক ও একাডেমিক শৃঙ্খলা পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখতে পাই যে, কতিপয় শিক্ষক জাতীয় দিবসসমূহে ও নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেন না। এমনকি অনেকে কলেজে অনুপস্থিত থেকে পরবর্তী কর্মদিবসে এসে বিগত দিনগুলোর ব্যাকডেটে (পূর্বের তারিখে) স্বাক্ষর করার মতো গুরুতর অনিয়মে লিপ্ত রয়েছেন। রুটিন মোতাবেক শিক্ষকেরা শ্রেণী কক্ষে উপস্থিত না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ সরাসরি কিছু শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে আমার নিকট লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেন। একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও স্থবিরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আমি শিক্ষকদের নিয়ে মাসে কমপক্ষে ২টি সমন্বয় সভা আহ্বান করি। সেখানে সরকারি বিধিমালা, চাকুরীর শৃঙ্খলা, হালাল উপার্জনের মাধ্যমে এবং নৈতিকতা বজায় রেখে যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিত থাকার জন্য এবং কলেজের সার্বিক কাজে অংশগ্রহণ করার জন্য সকলকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করি।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়েছে। একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও বিধিবিধান কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা আমার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। বিগত দিনে যারা নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে অনিয়মকে অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন, তাদের সেই অনৈতিক সুবিধা ও ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সরকারি বিধিবিধান ও চাকুরীর আইন কার্যকর করার কারণে আমার প্রতি অসন্তোষ থেকে তারা গণমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়ে এই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন ঘটনার অবতারণা করেছে।

প্রতিবেদনে আমাকে রাজনৈতিক তকমা দেওয়ার যে অপচেষ্টা করা হয়েছে, তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চাকুরীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমার দীর্ঘ পেশাগত জীবনে আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না এবং কোনো রাজনীতি করিনি। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রোশ ও অনিয়ম আড়াল করার অপচেষ্টা হিসেবে এই কাল্পনিক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

অতএব, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার স্বার্থে এবং জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে আমার এই প্রতিবাদলিপিটি আপনার মর্যাদাশীল পত্রিকায় একই পাতায় এবং সমগুরুত্বের সাথে প্রকাশ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

ধন্যবাদান্তে,

প্রফেসর এইচ এম আবদুস সালাম

অধ্যক্ষ

সরকারি হিজলা কলেজ

হিজলা, বরিশাল।