• ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল নগরীর আবাসিক হোটেলগুলো যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্য

দখিনের বার্তা
প্রকাশিত মে ১১, ২০২৬, ২০:৫৭ অপরাহ্ণ
বরিশাল নগরীর আবাসিক হোটেলগুলো যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্য
সংবাদটি শেয়ার করুন....

মুরাদ হোসাইন ।। বরিশাল নগরীর আবাসিক হোটেলগুলো যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নগরীর বেশ কিছু আলোচিত আবাসিক হোটেলে নিয়মিত মাদক সেবন, জুয়ার আসর, পতিতাবৃত্তিসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপ চলছে অহরহ। এরই প্রেক্ষিতে দিনে দিনে এসব হোটেলে বাড়ছে রহস্যজনক মৃত্যুর সংখ্যা। গত রবিবার ১০ মে দিবাগত রাতে নগরীর বিউটি রোডস্থ আবাসিক হোটেল নসিবে ২ সন্তানের জনকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে আবারো নগরীতে আলোচণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে আবাসিক।হোটেলগুলো। স্থানীয়রা জানান, আবাসিক হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কিছু হোটেলে অভিযান চালালেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য। আর হোটেল থেকে অবৈধ বিট বাণিজ্যের কারনে পুলিশের অভিযানের পূর্বেই তথ্য পেয়ে যায় হোটেল কর্তৃপক্ষ। যার ফলে মূল অভিযুক্তরা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাহিরে। পুনরায় কিছু সময় পরেই আবার পূর্বের ন্যায় চলমান থাকে অসামাজিক, অনৈতিক ও অপরাধজনিত কার্যকালাপ। তবে এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, আবাসিক হোটেলে থানা পুলিশের অভিযান চলমান আছে। তবে প্রয়োজনে অভিযানের পরিধি আরো বাড়ানো হবে। এছাড়াও আপনারা অবগত আছেন গত মাসেও লঞ্চঘাট এলাকার হোটেল রয়েল প্লাস এবং হোটেল স্বাগতম-এ অভিযান চালিয়ে মালিকসহ বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষকে আটক করা হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, নগরীর লঞ্চঘাট, পোর্টরোড, ফলপট্টি, বিউটিরোড, চকবাজারে প্রায় অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল চলমান আছে। এগুলোর মধ্যে হোটেল গালিব, অন্তরা, নসিব, পপুলার, পাতারহাট, চিল, মনপুরা, রয়েল প্যালেস, স্বাগতমসহ বেশকিছু নামধারী আবাসিক হোটেলে পতিতাবৃত্তি, মাদক সেবন, জুয়ার আসর চলে আসছে। তবে এদের বেশিরভাগই থেকে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোয়ার বাহিরে। ফলে আবাসিক হোটেলগুলো ঘিরেই তৈরি হয় অপরাধীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। অভিযোগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি না থাকা ও স্বল্প অভিযানের সুযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের বিটবাণিজ্যের কারনে হোটেলগুলোতে দিনে দিনে অপরাধমূলক কর্মকান্ড বেড়েই চলেছে। এতে যেমন সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে তেমনি যুবসমাজও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে নগরীর একাধিক হোটেলে অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।

লঞ্চঘাট ও পোর্টরোড এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, বর্তমানে এই রাস্তা দিয়ে জনসাধারণের চলাচলই দুষ্কর। কেননা এখান থেকে হাঁটতে গেলেই আবাসিক হোটেলের কর্মচারীরা হোটেলে নেয়ার জন্য ডাকতে শুরু করে। পারলে তারা কোলে করে হোটেলের মধ্যে নিয়ে যায়। তারা এদেরকে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান।

এসব হোটেলগুলো প্রধানত অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক সেবন এবং ভ্রাম্যমাণ অনৈতিক ব্যবসার নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হয়েছে এছাড়া পুলিশের প্রতিবেদনেও এসব ঘটনা উঠে এসেছে। সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হলে, নিয়মিত হোটেলগুলো তদারকি করলে ও অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অভিযানের পরিমান বাড়ালে এই ভয়াল অপরাধের থাবা থেকে নগরবাসী ও যুবসমাজ রক্ষা পাবে।

 

এ বিষয়ে বিএমপিতে সদ্য যোগদানকৃত পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, আমি নতুন আসছি, সব বিষয়ে একনো অবগত নয়। তারপরেও আমার অফিসারদের নির্দেশ দিয়ে দিচ্ছি যেন আবাসিক হোটেলগুলোতে আজ থেকেই সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন। পাশাপাশি গুরুত্ব সহকারে তদারকি করেন হোটেলগুলোতে। আমি এসব আবাসিক হোটেলসহ সর্বপ্রকার অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্সে আছি।