• ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নুরুল ইসলামের বিএনপিতে যোগদান ঘিরে তীব্র ক্ষোভ, সুযোগসন্ধানীদের ভিড়ে অস্বস্তিতে তৃণমূল, অপেক্ষায় আরও অনেকে

দখিনের বার্তা
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
নুরুল ইসলামের বিএনপিতে যোগদান ঘিরে তীব্র ক্ষোভ, সুযোগসন্ধানীদের ভিড়ে অস্বস্তিতে তৃণমূল, অপেক্ষায় আরও অনেকে
সংবাদটি শেয়ার করুন....

 

নিজস্ব প্রতিনিধি | বরিশাল
বরিশাল-৫ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যখন মাঠে রাজনীতির উত্তাপ চরমে, ঠিক তখনই বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে সাবেক আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ও আলোচিত ভূমিদস্যু নুরুল ইসলামের বিএনপিতে যোগদান।
ফ্যাসিবাদ পতনের পর আত্মগোপনে থাকা সুবিধাবাদী একটি চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল বিএনপির ভেতর থেকেই। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, যাদের অতীত জুড়ে রয়েছে দখল, হামলা, মামলা আর ভয়ভীতি—তাদেরই এখন বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নতুন করে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান সরোয়ারের হাতে ফুল দিয়ে দলে যোগদান করেন। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে দেখা দেয় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও তার নাম উঠে আসে। সে সময় সিএনবি চৌমাথা এলাকায় হামলার পুরো ব্যয়ভার বহন করেছিলেন নুরুল ইসলাম—এমন অভিযোগ এখনো মুখে মুখে ঘুরছে এলাকাজুড়ে।
ভূমি বাণিজ্যেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে ভয়াবহ অভিযোগ। একাধিক জমির মালিক দাবি করেছেন, বায়না নেওয়ার পর জমি বিক্রি করলেও প্রকৃত মালিকদের টাকা আজও পরিশোধ করা হয়নি। কোথাও আংশিক টাকা দিয়ে বছরের পর বছর মানুষকে ঘুরিয়েছেন তিনি। টাকা চাইলে হামলা-মামলার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, নুরুল ইসলামের কাছে এখনো বহু মানুষের জমির মূল দলিল আটকে রয়েছে। দলিল ফেরত না দিয়ে বরং ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মানসম্মান ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেকেই আজও প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
স্থানীয়দের ভাষায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার ছত্রছায়ায় এমন কোনো অপকর্ম নেই যা নুরুল ইসলাম করেননি। ক্ষমতা যেখানে, সেখানেই অবস্থান—এটাই ছিল তার রাজনৈতিক নীতি। আর এখন সেই একই সুবিধাবাদী কৌশলে বিএনপির ছায়ায় ঢোকার চেষ্টা বলেই মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশাল মহানগর বিএনপির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে প্রকাশ্য বিভাজন। অনেক নেতা-কর্মী স্পষ্টভাবে বলছেন, এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে টানলে আদর্শিক রাজনীতিই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
একজন তৃণমূল নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“নুরুল ইসলামের মতো আরও অনেকে আছে, যারা শুধু সময়ের অপেক্ষায়। সুযোগ পেলেই তারা বিএনপির ঘাড়ে চেপে বসতে চাইবে।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বরিশাল জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা মন্তব্য করে লেখেন,
“এ ধরনের বিতর্কিত লোকজনকে দলে না নেওয়াই উত্তম।”
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার স্পষ্ট অবস্থান জানান। তিনি বলেন,
“আমাদের হাইকমান্ডের নির্দেশ পরিষ্কার—ফ্যাসিবাদী শক্তির কেউ বিএনপির সদস্য হতে পারবে না। যাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তিনি মহানগর বিএনপির কেউ নন এবং তার যোগদান দলীয় সিদ্ধান্ত নয়।”
সব মিলিয়ে নুরুল ইসলামের এই যোগদান বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির ভেতরের রাজনীতিতে নতুন করে অস্বস্তি, ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখনই লাগাম না টানলে সুযোগসন্ধানীদের এই অনুপ্রবেশ ভবিষ্যতে দলীয় রাজনীতিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।