নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুরের উত্তর চওঠা এলাকায় মাদক ব্যবসাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে বর্তমানে কারাগারে থাকা রাসেল হাওলাদার ওরফে ‘চডা রাসেল’-এর অনুপস্থিতিতেও তার কথিত সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, কারাগারে থাকলেও বাইরে থাকা তার সাঙ্গপাঙ্গদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং তার ইশারা-নির্দেশেই কথিত মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এ দাবির স্বাধীন প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। অভিযোগটি সত্য কি না, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
কারাগারে রাসেল, বাইরে সক্রিয় সহযোগীরা
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাসেল হাওলাদার বর্তমানে কারাগারে থাকায় সরাসরি এলাকায় অবস্থান না করলেও তার কথিত সহযোগীরা মাদক ব্যবসার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি মাদক সংগ্রহ, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত এবং তারা রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও গ্রেপ্তারের পরও মাদক ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং মূল ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার সহযোগীদের মাধ্যমে কার্যক্রম চালু রাখার অভিযোগ উঠেছে।
‘ইশারায় চলছে সিন্ডিকেট’, দাবি স্থানীয়দের
কাশিপুরের কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, রাসেল কারাগারে থাকলেও তার প্রভাব এলাকায় রয়েছে। বাইরে থাকা কথিত সহযোগীরা তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে কারাগারে থাকা কোনো ব্যক্তি কীভাবে বাইরে থাকা ব্যক্তিদের নির্দেশনা দিচ্ছেন, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এ কারণে স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পুরো বিষয়টি গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।
মাদকের উৎস ও সহযোগীদের শনাক্তের দাবি
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে শুধু রাসেল হাওলাদারকে কেন্দ্র করে তদন্ত সীমাবদ্ধ না রেখে তার কথিত সহযোগী, মাদক সরবরাহকারী, পরিবহনকারী ও অর্থের উৎসও শনাক্ত করা হবে কি না।
তাদের দাবি, মাদক ব্যবসার মূল শিকড় চিহ্নিত করতে হলে কারা মাদক সরবরাহ করছে, কারা এলাকায় পৌঁছে দিচ্ছে এবং কারা বিক্রির সঙ্গে জড়িত, এসব বিষয় তদন্ত করা জরুরি।
আগেও একাধিক অভিযোগ
রাসেল হাওলাদার ওরফে ‘চডা রাসেলকে’ ঘিরে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ছিনতাই ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অতীতে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি তাদের।
তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয় সংশ্লিষ্ট মামলা, আদালতের নথি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেও কিছুদিন পর আবার একই ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়। তাদের দাবি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা না গেলে স্থায়ীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যে-ই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকুক, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কেউ কারাগারে থেকেও যদি বাইরে থাকা লোকজনের মাধ্যমে অপরাধ চালিয়ে যায়, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।”
অভিযোগের পাশাপাশি প্রশাসনের বক্তব্য জরুরি
রাসেল হাওলাদার বর্তমানে কোন মামলায় কারাগারে রয়েছেন, তার বিরুদ্ধে কী কী মামলা রয়েছে, তার সহযোগীদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কোনো তথ্য আছে কি না এবং কারাগার থেকে বাইরে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে স্থানীয়দের উত্থাপিত মাদক ব্যবসার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
শুধু একজন নয়, পুরো নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
কাশিপুরের বাসিন্দাদের মতে, মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে হলে শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করলেই হবে না। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, বিক্রেতা, অর্থের জোগানদাতা এবং সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
রাসেল হাওলাদার কারাগারে থাকা অবস্থায়ও যদি তার কথিত সহযোগীদের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা চলার অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এখন কাশিপুরবাসীর প্রশ্ন, কারাগারে থাকা ‘চডা রাসেল’-এর কথিত প্রভাব কি সত্যিই বাইরে সক্রিয়? তার সহযোগীরা কি তার নির্দেশনায় মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে? নাকি স্থানীয়দের অভিযোগের পেছনে অন্য কোনো বাস্তবতা রয়েছে?
এর উত্তর মিলতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তেই।