বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশাল নগরের ধোপা বাড়ির মোড় এলাকায় মোসাঃ শাম্মী আক্তার (৪৫) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাৎ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সহায়তায় তিনি একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এই প্রতারণার কারণে ৫ থেকে ১০টি পরিবার চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ব্যবসার নামে ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎঅনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল কোতোয়ালী থানার নবগ্রাম রোডের মানু মিয়ার লেনের বাসিন্দা মোসাঃ লিজা (৪০) (স্বামী: মোঃ সিদ্দিক খিজির মিয়া) এর সাথে শাম্মী আক্তারের একসময় পারিবারিক সুসম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সুবাদে ব্যবসার কথা বলে শাম্মী আক্তার লিজার কাছ থেকে দুই দফায় মোট ৪৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নেন এবং এর বিপরীতে দুটি ব্যাংকের চেক প্রদান করেন।
১. প্রথম দফায় সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কমার্স ব্যাংকের (হিসাব নং: ০১১২০০০০০৫৩৫৫৬, চেক নং: SBA-0431507) মাধ্যমে ৪০ লক্ষ টাকা নেন।
২. দ্বিতীয় দফায় পূবালী ব্যাংক বরিশাল শাখার (হিসাব নং: ০৩৭৪১০১২৬৩১৭২, চেক নং: BF-29554) মাধ্যমে আরও ৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নেন।
ভুক্তভোগী লিজা জানান, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে চেক দুটি ব্যাংকে নগদায়ন করতে গেলে জানা যায় শাম্মী আক্তারের অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। এরপর লিজা ও তার স্বামী সিদ্দিক টাকা ফেরত চাইলে শাম্মী আক্তার বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেন।
চেক উদ্ধারের নামে পাল্টা ‘ভুয়া’ মামলা ও আইনি লড়াই
টাকা আত্মসাতের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শাম্মী আক্তার উল্টো লিজা ও তার স্বামী সিদ্দিকের বিরুদ্ধে চেক চুরির অভিযোগ এনে একটি ভুয়া মামলা দায়ের করেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে আদালতে এই সংক্রান্ত একাধিক মামলা চলমান রয়েছে, যার মধ্যে এমপি মামলা নং- ২৯/২০২৬ এবং এমপি মামলা নং- ২২/২০২৬ অন্যতম। পরবর্তীতে প্রতারণার শিকার লিজা নিজে বাদী হয়ে টাকা উদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাম্মী আক্তারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে এবং তার পিসিআর (স্থায়ী অপরাধ রেকর্ড) যাচাই করলে সত্যতা পাওয়া যায়।
বাড়িওয়ালার নারাজি ও শাম্মী আক্তারের চাতুরি
ভুক্তভোগী লিজা অভিযোগ করে বলেন,
”পারিবারিক সম্পর্কের খাতিরে আমরা তাকে বিশ্বাস করে এই বিশাল অঙ্কের টাকা দিয়েছিলাম। বিনিময়ে তিনি আমাদের চেক দিয়েছেন। আর এখন বলছেন তার বাসা থেকে নাকি চেক হারিয়ে গেছে! তিনি আমাদের নামে মিথ্যা মামলা পর্যন্ত করেছেন। তিনি অত্যন্ত চতুর ও প্রতারক প্রকৃতির নারী।”
আরও জানা গেছে, শাম্মী আক্তার যে বাড়িতে ভাড়া থাকেন, সেই বাড়ির মালিক (এক ভদ্রমহিলা) কে ভুল বুঝিয়ে নিজের পক্ষে মামলার সাক্ষী করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে ঘটনার আসল সত্যতা জানতে পেরে ওই বাড়িওয়ালা নিজেকে শাম্মী আক্তারের দায়ের করা মামলা থেকে প্রত্যাহার করে নেন এবং আদালতে নারাজি দেন।
নেপথ্য পরিচয় ও বর্তমান পরিস্থিতি অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোসাঃ শাম্মী আক্তার, বরিশাল গোরস্থান রোডের ধোপা বাড়ির মোড় এলাকার শামসুল হক হাওলাদার ও মোসাঃ লুৎফুন্নেসা ভূঁইয়ার কন্যা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাম্মী আক্তারের প্রথম স্বামী পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে অর্থলিপ্সার কারণে তাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য একজনকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্বামীর সাথেও বেশ কয়েক বছর মামলা-মোকদ্দমা চলার পর বর্তমানে আবারও তার সাথেই সংসার করছেন।
এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত শাম্মী আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার আমার কাছে কোন টাকা পাবে না সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। তাহলে চেক গুলো তাদের দিয়েছে কে এমন প্রশ্নের জবাবে ডাক্তার দেখাচ্ছি বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোনটা কেটে দেন। এমনকি ধোপা বাড়ির মোড় এলাকায় তার বর্তমান ভাড়া বাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এই চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো