• ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগ পরিচয়ে প্রভাব দেখানো গৌরনদীর সেই পিআইও’র বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

দখিনের বার্তা
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২৫, ১৬:৩৬ অপরাহ্ণ
ছাত্রলীগ পরিচয়ে প্রভাব দেখানো গৌরনদীর সেই পিআইও’র বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

: পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে অফিসে প্রভাব বিস্তারকারী এক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই কর্মকর্তার নাম মো. সালাউদ্দিন। তিনি বরিশালের গৌরনদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে গৌরনদীতে যোগদান করেন মো. সালাউদ্দিন। সেসময় নিজেকে পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটটের পদধারী ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিতেন। অফিসে নিজের প্রভাব বিস্তারের জন্য কখনো নিজেকে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক হুইপ আসম ফিরোজ আবার কখনো সাবেক দূর্যোগ ও ত্রান প্রতিমন্ত্রী মহিবুর রহমানের লোক হিসেবে পরিচয় দিয়ে অফিসে প্রভাব বিস্তার করতেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে টিআর-কাবিখা-কাবিটা ও ব্রীজ নির্মাণ কাজ থেকে ১০% করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলেও সে সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা থাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
তবে ক্ষমতার পালা বদলের পর তিনি এখন নিজেকে প্রথম দিকে জামায়াতের লোক পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। কিন্তু গৌরনদীতে জামায়াতের প্রভাব কম থাকায় ভোল পাল্টে এখন নিজেকে বিএনপি’র লোক হিসেবে দাবী করে আসছেন।
টিআর-কাবিখা প্রকল্পের একাধিক সভাপতি ইউপি সদস্যরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পতিত সরকারের আমলে পিআইও সালাউদ্দিন আওয়ামী লীগের দাপট দেখিয়ে প্রকল্প থেকে পার্সেন্টিজ আদায় করতেন। বর্তমানেও পার্সেন্টিজ আদায় অব্যাহত রয়েছে। সে অফিসে আশরাফুল নামের একজন বহিরাগত লোক দিয়ে এসব অনিয়ম পরিচালনা করে আসছেন।
জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলার বাউফলের বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন গত ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর গৌরনদী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরআগে তিনি সিলেটের জৈন্তাপুর ও পিরোজপুর সদরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সিলেটের জৈন্তাপুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে কর্মরত থাকাকালীণ ব্যাপক অনিয়মে জড়িয়ে পরেছিলেন তিনি। যে কারনে জনরোষে রাতের আধাঁরে তাকে জৈন্তাপুর থেকে পালিয়ে আসতে হয়েছিলো। এরপর পিরোজপুর সদর উপজেলায় যোগদান করেন। সেখানও অনিয়মে জড়িয়ে পরায় ছয় মাসের বেশি টিকতে পারেননি একেক সময় একেক দলের পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব দেখানো এ কর্মকর্তা।
পার্সেন্টিজ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, আমি কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে। এবিষয়ে জানতে জেলা ত্রান ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা রনজিত কুমার সরকারকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।