• ৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রশাসকের উদাসীনতায় ভোগান্তিতে বিসিসির গ্রাহকরা, বিএনপি পন্থী সাবেক কাউন্সিলরদের উৎপাত! * ডাকবাংলায় ফাইল পড়ে থাকে ১০/১৫ দিন

দখিনের বার্তা
প্রকাশিত মার্চ ৬, ২০২৬, ১৩:০৮ অপরাহ্ণ
প্রশাসকের উদাসীনতায় ভোগান্তিতে বিসিসির গ্রাহকরা, বিএনপি পন্থী সাবেক কাউন্সিলরদের উৎপাত!  * ডাকবাংলায় ফাইল পড়ে থাকে ১০/১৫ দিন
সংবাদটি শেয়ার করুন....

 

নিজস্ব প্রতিবেদক –
নিয়মিত অফিস না করায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ফাইল ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারের ডাকবাংলায় দিনের পর দিন পরে থাকায় চরম ভোগান্তি পহাচ্ছে সেবা গৃহীতারা। তার উপরে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পরার পর সিটি কর্পোরেশনের দিকে আরো বেশি অমনোযোগী হয়ে পড়েছেন বিসিসির প্রশাসক। এর সাথে যোগ হয়েছে বিএনপি পন্থী সাবেক কাউন্সিলর এবং ঠিকাদারদের উৎপাত। ফলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে একটি বিশৃংখল পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জানাগেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পানি শাখা, বিদ্যুৎ শাখা, ট্রেড লাইসেন্স শাখা, হাট বাজার শাখা, কর আদায় শাখা, একাউন্টস শাখা সহ বিভিন্ন শাখার ফাইল প্রশাসকের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় ১০/১৫ দিন ধরে পড়ে আছে। তার স্বাক্ষর না হওয়ার কারণে ফাইল গুলো নিয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারায় গ্রাহকরা কোন সন্তোষজনক সমাধান পাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, এক শাখা প্রধান জানিয়েছেন, প্রশাসক স্যারের ডাকবাংলায় ফাইল জমা দিয়ে আসছি। সিও, সচিব স্যারের স্বাক্ষর হয়েছে কিন্তু প্রশাসক স্যার স্বাক্ষর না করায় সেবা গৃহীতারা অফিসে আসছে আর কাজ না হওয়ায় আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে। এর আগের প্রশাসক স্যার ছুটির দিনেও কাজ করতেন। সাহস নিয়ে যে কোন সমস্যা নিজে প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সমাধান করতেন। কিন্তু বর্তমান স্যার সিটি কর্পোরেশনের দিকে অমনোযোগী। এদিকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হঠাৎ করেই বিএনপিপন্থী সাবেক কমিশনার এবং বিএনপির দলীয় নেতা কর্মীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৭ নাম্বার ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার সৈয়দ আকবর ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের হাবিবুর রহমান টিপু কাউন্সিলর সহ বেশ কয়েকজন সাবেক কাউন্সিলর প্রায়ই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও প্রকৌশলীদের রুমে গিয়ে তাদের বিরক্ত করেন। ঠিকাদারী কাজ দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এমনকি এই সুযোগে গেল ১৫/২০ বছর আগের ঠিকাদারি বিল উত্তোলনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের সিইও এবং বিভাগীয় কমিশনারকেও নানাভাবে প্রেসার করছেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দিয়ে পিওনকে কাউকে ভেতরে ঢুকতে নিষেধও করে সিওকে কৌশলে প্রায় ই চাপ প্রয়োগ করেন। বরিশাল সদর আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মুজিবর রহমান সরোয়ারের লোক পরিচয় দিয়ে তার প্রভাব খাটিয়ে সাবেক কাউন্সিলর আকবর হোসেন সহ কয়েকজন একাউন্টস শাখাতে গিয়েও ঘুরঘুর করেন। এমন কি মজিবর রহমান সারোয়ারকে দিয়ে সুপারিশ করানোরও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। হঠাৎ সিটি কর্পোরেশনে তাদের এই আনাগোনা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিরক্তের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অঙ্গ সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীরা শাখা প্রধানদের কাছে কেউ স্টল নেওয়ার তদবির, কেউ প্লান ছাড়ানোর তদবির, কেউ টিউবওয়েল এর তদবির, কেউ ট্যাক্স কমানোর তদবির, কেউ কবে টেন্ডার হওয়ার সম্ভাবনা তার খবর নিতে ছুটে যাচ্ছেন। শাখা প্রধানরা বলছেন, বিরক্ত হওয়ার উপায়ও নাই। তাদের দল ক্ষমতায়। কিছু বললে উল্টো চাকরি যাওয়ার হুমকি।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারি জানান, কোন ফাইল পরে থাকে না। স্যার তার সময় সুযোগ মতো সবগুলোই স্বাক্ষর করে দিচ্ছেন। বিএনপি কন্থী সাবেক কাউন্সিলর এবং নেতাকর্মীদের উৎপাতের বিষয়ে জানান, একেকজন একেকটা কাজে আসেন। আমি তো আর কাউকে চলে যেতে বলতে পারিনা। প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মাহফুজুর রহমানকে বিসিসির ফাইল পরে থাকার বিষয়ে জানতে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।