• ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কখনো ছাত্রলীগ, কখনো সাংবাদিক বহুরূপী বরিশালের নাঈম গ্রাহকের কোটি টাকা খেয়েও বহাল তবিয়তে

দখিনের বার্তা
প্রকাশিত আগস্ট ৩, ২০২৫, ২১:৫১ অপরাহ্ণ
কখনো ছাত্রলীগ, কখনো সাংবাদিক বহুরূপী বরিশালের নাঈম গ্রাহকের কোটি টাকা খেয়েও বহাল তবিয়তে
সংবাদটি শেয়ার করুন....

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃনিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য থেকে হয়ে জান ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট কর্মকর্তা,এর পরেই শুরু হয় প্রতারনা! যা ফ্যাসিস্ট আ”লীগ সরকারের পতন হলেও এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে ছাত্র লীগনেতা নাঈম

কখনো সাংবাদিক আবার কখনো ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী আবার কখনো ব্যাংকের এজেন্ট কর্মকর্তা পরিচয়ে নিজেকে জাহির করতো জনসাধারণের মাঝে। বলছি ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের বিতর্কিত এজেন্ট নাঈম হোসেনের কথা।

বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের কাগাশুরা বাজারের ডাচ্- বাংলা ব্যাংকের আউটলেট এজেন্ট কর্মকর্তা নাঈম হোসেনের বিরুদ্ধে এখনো নেওয়া হয়নি কোন ব্যাবস্থা। তিনি গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে রয়েছেন আত্মগোপনে। প্রশাসন ও ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের কর্তারা
এখনো নীরব ভূমিকায়। হতাশা নিয়ে বিভিন্ন মানুষের দ্বারপ্রান্তে ঘুরছেন গ্রাহকরা। শেষ সম্বল টুকু হারাতে বসছেন অসহায় মানুষ গুলো।

অভিযোগ আছে, ততকালীন সময়ে স্বৈরশাসক আ’লীগের প্রভাব বিস্তার করে হয়ে যায়, ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট কর্মকর্তা । কখনো ক্ষমতাসিল বিতর্কিত সাদিক আবদুল্লাহর কর্মী আবার কখনো বরিশাল (৫) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুক শামীমের কর্মী হিসেবে পরিচয়ে প্রতারণা করে কামিয়েছেন কোটি-টাকা।

এই নাঈম হোসেন, ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে আওয়ামী লীগের হয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। কথিত আছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো সহ সাধারণ কর্মীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানির করত। এমনকি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করতেন।

অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি সময়ে কাকাশুরা বাজারের দীর্ঘদিনের পরিচিত ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট কর্মকর্তা নাঈম ব্যাংক লেনদেনের কাজ করে আসছিলেন দীর্ঘদিন। গ্রামের সহজ—সরল মানুষ তার মাধ্যমে টাকা জমা রাখতেন, যেমন মেয়ের বিয়ের টাকা, ডিপিএস ,গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল দিতেন এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতেন।

অভিযোগ উঠেছে, গত একমাস ধরে প্রতারক নাঈমকে বাজারে দেখা যাচ্ছে না এবং তার ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এরপরই গ্রাহকদের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে।তারা বাজারে এসে জানতে পারে নাইম টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে। সেখানে থাকা বিক্ষুব্দ জনতা ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকে তালা লাগিয়ে আন্দোলন করে।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অভিযোগ, এজেন্ট নাইম ভুয়া রশিদ এবং ভুল হিসাব,গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের কাগজে ভূয়া সিল দিয়ে টাকা জমা না দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের টাকা আত্মসাৎ করে আসছিলেন। অনেক গ্রাহক তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের পুরোটাই হারিয়েছেন। এদের মধ্যে দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং প্রবাসী কর্মীরাও রয়েছেন, যাদের কাছে এই টাকা ছিল ভবিষ্যৎ জীবনের একমাত্র ভরসা।

নাঈমের এই প্রতারণা নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে বিভিন্ন শিরোনামে প্রতিবেদন হলেও এখনো নেওয়া হয়নি কোন
ব্যবস্থা। প্রকাশ্যে নাঈম জনসাধারণের মাঝে না আসলেও বিভিন্ন সময় দেখা যাচ্ছে প্রতারক নাঈম অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল সহ নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এসে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়ে যাচ্ছে। যাতে ক্ষোভে ফুঁসছেন ভুক্তভোগী পরিবার গুলো।

প্রতারক নাঈমের আরো চঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে আসছি আগামী পর্বে দেখতে চোখ রাখুন…