• ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশাল নগরীতে চলছে শতবর্ষী দিঘি ভরাট ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের

দখিনের বার্তা
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১৬:৩৯ অপরাহ্ণ
বরিশাল নগরীতে চলছে শতবর্ষী দিঘি ভরাট ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বরিশাল নগরীতে একটি শতবর্ষী দিঘি অবৈধভাবে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সর্দার সড়কের ভেতরে ড্রেজারের পাইপ ব্যবহার করে দিঘিটি ভরাট করা হচ্ছে। স্থানীয় কিছু প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিঘিটি অত্যন্ত পুরনো। এর সঠিক বয়স তারা বলতে না পারলেও জানান, বাবা-দাদার সময় থেকেই দিঘিটি এলাকায় বিদ্যমান। অতীতেও দিঘিটি ভরাটের চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে সে সময় তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আবারও দিঘিটি ভরাট করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দিঘিটির পাশের এক দোকানি জানান, ভরাটকৃত জমির মালিক বাবুগঞ্জ এলাকায় বসবাস করেন। তবে তিনি মালিকের বিস্তারিত পরিচয় জানেন না। পরে ভরাটকৃত জমিতে টানানো সাইনবোর্ড থেকে জানা যায়, ক্রয় সূত্রে জমিটির মালিক শহিদুল ইসলাম। এলাকার আরেক বাসিন্দার কাছ থেকে জানা যায়, ড্রেজারের পাইপ দিয়ে বালু সরবরাহ করছেন কোটন নামের এক ব্যক্তি, যিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়দের দাবি। এর আগেও একই এলাকার বেঙ্গল বিস্কুট কারখানা সংলগ্ন একটি পুকুর ভরাটের ঘটনায় তার নাম উঠে আসে। এ বিষয়ে বালু সরবরাহকারীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি শালিশে আছেন বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “আমরা লোক পাঠাচ্ছি। বিষয়টি সরেজমিনে দেখে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্প এলাকায় জলাশয় ভরাটের ফলে ভয়াবহ জনদুর্ভোগ তৈরি হতে পারে। দিঘি ও পুকুর ভরাট হলে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং স্থানীয় তাপমাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং জলাশয় সংরক্ষণ আইন, ২০০০ অনুযায়ী কোনো প্রকার জলাশয় ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া জলাশয় ভরাট করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে দিঘি ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে নগরীর পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।