-বরিশাল নগরীতে দিনের বেলা দুইটি মাছের ট্রাক আটকিয়ে ফিল্মি স্টাইলে গাড়ির চাবি নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে লুটপাটের ভয় দেখিয়ে প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকার মাছ জিম্মি করে এক লক্ষ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে তিন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর এলাকার বিল্লাবাড়ি সড়কে মাছের দুটি ট্রাক থামিয়ে প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে এক লাখ টাকা নিয়ে ট্রাক দুটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযুক্তরা হলেন— ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘিয়া এলাকার ছাত্রলীগ নেতা রুমান সর্দার, বিল্লাবাড়ি এলাকার শহিদ হাওলাদারের ছেলে রাকিব হাওলাদার এবং রিজন (২৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ)। অভিযোগকারীরা জানান, অভিযুক্তরা নিজেদের প্রভাব দেখিয়ে গাড়ির চাবি নিয়ে নেয় এবং মাছ লুটপাটের হুমকি দেয়।
বরিশাল পোর্টরোড মাছ ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবী দলের সভাপতি বলেন, “আজ বিকেলে নগরীর বিএনপি নেতা সরোয়ার ভাইয়ের বাসার পিছনের রাস্তায় আমাদের মাছের দুটি গাড়ি আটকিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি, তবে যারা চাঁদাবাজি করেছে তাদের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য নাম ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। তারা সবাই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা এবং সাবেক কাউন্সিলর ইমরান মোল্লার অনুসারী হয়ে এখন অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক বনে গেছেন।”
একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন একটি চক্র বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের নাম দিয়ে নগরীতে বিভিন্ন জায়গায় সংবাদ প্রকাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করে আসছে।বিগতদিন বেশ কয়েকজন ভুয়া সাংবাদিক পুলিশের হাতে আটক হয়েও অদৃশ্য কারণে বেশ কয়েকজন আটক না হওয়াতে এখন চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছে।
মাছের গাড়ি আটকিয়ে চাঁদাবাজির সংবাদ সংগ্রহে করতে মুল ধারার প্রিন্ট পত্রিকার সাংবাদিক ঘটনা স্থানে উপস্থিত হয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কথিত অনলাইন সাংবাদিক চাঁদাবাজরা ভিডিও করে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। মুল ধারার প্রিন্ট পত্রিকার সাংবাদিকদের সাথে এক পর্যায়ে অনলাইন পরিচয় প্রদানকারী চাঁদাবাজদের কথা কাটাকাটি হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনের বেলা প্রকাশ্যে এভাবে চাঁদাবাজি চলতে থাকলে নগরীতে বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা