পরীমণির অভিযোগ আনা কে এই নাসির ইউ মাহমুদ

জুন ১৪ ২০২১, ০৭:৩৭

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক ॥ অভিনেত্রী পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি নিজেই এমন অভিযোগ করেছেন। রবিবার (১৩ জুন) রাত ৮টার দিকে তার ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিষয়টি জানান তিনি।

এরপর গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরলেন ঘটনা। তিনি জানান, তার ওপর সেদিন রাতে নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছেন নাসির ইউ মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি।

নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে পরীমণি বলেন, উত্তরার বোট ক্লাবে তার সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে। নাসির ইউ মাহমুদ নামে একজন নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ঘটনার দিন রাত ১২টার পর পরিচিতজনদের নিয়ে ওই ক্লাবে যান নায়িকা। সেদিন চার জন মদ্যপ ব্যক্তি তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। চড়-থাপ্পড় মারেন। গায়ে আঘাত করেন। এক পর্যায়ে একজন তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে ধর্ষণের চেষ্টাও করেন।

তিনি বলেন, আমি সুইসাইড করার মতো মেয়ে নই। কিন্তু কোনো কারণে আমি যদি মারা যাই, ধরে নেবেন আমাকে মেরে ফেলা হয়েছে।

জানা গেছে, বোট ক্লাবের একজন পরিচালক নাসির ইউ মাহমুদ। উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতিও ছিলেন এই শিল্পপতি। পরীর ভাষ্যে বেশ কয়েকবার ‘উত্তরা বোট ক্লাব’ শব্দটি আসে। যদিও এই নামে ঢাকায় কোনও ক্লাব নেই। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি উত্তরা ক্লাব ও ঢাকা বোট ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

পরীমণি বলেন, বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে তার এক বন্ধু বাসায় আসেন। বাসা থেকে তাকে উত্তরার বোট ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে সবসময় থাকেন এবং নাচ করেন… ছেলেটি ছিলেন। বোট ক্লাবে যাওয়ার পর সেখানে জিমি ও পাঁচজনের একটি গ্রুপ ছিল। তাদের মুরব্বি ছিলেন নাসির উদ্দিন। তিনি বোর্ড ক্লাবের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেন।

নাসিরসহ উপস্থিত সাত/আটজন তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন। জিমি এ সময় সাইডে চলে যায়। ওই পাঁচ/সাতজন তাকে আটকে ফেলেন। তাকে জোর করে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করে ফেলা হয়। তার সঙ্গে থাকা ছেলেটিকে (একসঙ্গে নাচ করেন) মারধর করা হয়। অশ্লীল নানা কথাবার্তা বলা হয়। মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়। নাসির তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন পরীমণি।

ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে এক ব্যবসায়ীর নাম বলেছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। রবিবার রাতে এক ফেইসবুক পোস্টে অভিযোগ তোলার কয়েক ঘণ্টা পর ঢাকার গুলশানে নিজের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। এই অভিনেত্রী অভিযোগ করেছেন ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য (বিনোদন ও সংস্কৃতি) নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে।

পরীমণির অভিযোগের বিষয়ে নাসিরের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার একটি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। আরেকটি নম্বরে ফোন করলে তা ধরেন উত্তরা ক্লাবের এক কর্মচারী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

ঢাকা বোট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাসির একজন আবাসন ব্যবসায়ী। উত্তরা ক্লাবেরও সাবেক সভাপতি তিনি। ঢাকা বোট ক্লাবের বর্তমান সভাপতি পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। তার কাছে নালিশ দিতে গিয়ে সফল হননি বলে দাবি করেন পরীমণি। এ বিষয়ে পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে পরীমণির ফেইসবুক পোস্ট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘পুলিশের সাথে যোগাযোগ করলে অবশ্যই তার এ (অভিযোগের) বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি আইজিপি স্যারের নাম কেন উল্লেখ করলেন, তা স্পষ্ট নয়। আইজিপি মহোদয়ের সাথে তিনি কোনো যোগাযোগ করেননি।’

শিল্পপতি নাসির ইউ মাহমুদ এর আরও পরিচয়

পরপর দুই বছর ২০১৪ সালে এবং ২০১৫ সালে উত্তরা ক্লাবের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন শিল্পপতি নাসির ইউ মাহমুদ। নির্বাচনে নাসির ইউ মাহমুদ ৬৭২ ভোট পান। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। তিনি ঢাকা বোট ক্লাবের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। নিজস্ব আবাসন প্রকল্প ‘কুঞ্জ ডেভলপারর্স লি.’ এর চেয়ারম্যান নাসির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। ওই সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের (এসএম হল) নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার স্ত্রী জীবিত রয়েছেন। তাদের সংসারে দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে একই আবাসন প্রকল্পের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন পরীমণি, যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় চলছে। এ দিকে পরীমণি দাবি করেছেন, ঘটনার পর তিনি বনানী থানায় অভিযোগ করতে গেলেও তা নেওয়া হয়নি।

বনানী থানার ওসি নুরে আজম নুরে আজম মিয়া বলেন, ‘গত কয়েকদিনে এই নামে থানায় কেউ আসেনি। কেউ কোনো অভিযোগও করেনি। তবে সংবাদ সম্মেলনের পরে মধ্যরাতে পরীমণির বাড়িতে দেখা যায় ঢাকার রূপনগর থানার ওসিকে।

নড়াইলের মেয়ে ‘শামসুন্নাহার স্মৃতি’ চলচ্চিত্রে পরীমণি নাম নিয়ে ২০১৫ সালে নামার পর দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ইতোমধ্যে দুই ডজন চলচ্চিত্রে নায়িকার চরিত্র রূপায়ন করেছেন তিনি।

রবিবার রাতে এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

পুলিশে জানিয়ে ফল পাননি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে লেখেন এই অভিনেত্রী। তার ওই পোস্ট দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

পোস্টটি দেখার পর যোগাযোগ করা হলে পরীমণি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি ভালো নাই। এমন ঘটনা নিজের উপর না ঘটলে আমরা কেউ বুঝব না, কী ঘটেছে। আমি এর বিচার চাই।’তার ঘণ্টাখানেক পর গুলশানে নিজের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।

সেখানে তিনি জানান, ‘গত বুধবার রাতে পরীমণি কস্টিউম ডিজাইনার জিমি, জিমির বন্ধুসহ উত্তরায় বোট ক্লাবে যান। ক্লাবটা তখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এ সময় দুজন বয়স্ক ব্যক্তি এসে তাদের মদ পানের আমন্ত্রণ জানায়। তখন শরীর খারাপ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন পরীমণি।’

পরীমণি বলছেন, ‘ওই দুজনের একজন নাসির ইউ মাহমুদ। জোরাজুরির এক পর্যায়ে আমাকে মারধর করে কিছু লোক। এক পর্যায়ে নাসির মাহমুদ আমার মুখে মদের বোতল ঠেসে ধরে গিলতে বাধ্য করেন। তখন আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান তিনি।’

প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ছাড়া পেয়ে বনানী থানায় গিয়েছিলেন জানিয়ে পরীমণি জানান, তার (পরীমনির) মুখে মদের গন্ধ থাকায় পুলিশ কর্মকর্তারা তার কথা শুনতে চায়নি। এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে ওয়াশ করার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে তিনি বাসায় চলে যান। এর পরের দিনগুলোতে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানসহ বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।