বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, প্রতারণা মামলার পরও বহাল তবিয়তে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম

এপ্রিল ২৯ ২০২১, ০৫:৩০

Spread the love

‘‘ সর্বশেষ তিনবার ধর্ষণ করে ভোররাতে পালায় জসিম- মামলার এজাহারে বাদীর অভিযোগ ’’

নিয়াজ মো./ তানভীর আহম্মেদ অভি-[][] বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল মহানগর কমিটির মধ্যে বিতর্কিত একটি অন্যতম কমিটি বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগ কমিটি। এ কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে জমি দখল, ক্ষমতার অপব্যবহার সহ বেশ কিছু অভিযোগ ছিল।তাতে ষোল কলা পূর্ণ হল ধর্ষণ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, অবৈধভাবে জোরপূর্বক গর্ভপাত, নারী নির্যাতন সহ অভিযোগে এ মামলা।

মামলার বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও আসামী জসিম গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানা যায়। তাদের প্রশ্ন, ভুক্তভোগী দরজায় দরজায় কড়া নেড়ে কোন ফল পাবেন কিনা সন্দেহ। জসিম উদ্দিন আগেই বলেছেন,প্রেমের সম্পর্ক ছিল সত্য বিয়ে তিনি করবেন না যত বছর জেল খাটুক।

\\\\\\\\\বিকৃত যৌনাচারে বাধা দিলেই চলতো শারিরীক নির্যাতন। পায়ুপথে দুবার অপারেশন করতেও হয়েছে এ কারনে – বাদীর অভিযোগ \\\

অপরদিকে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি জয়কে বারবার ফোনে,হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে বাদী, সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলেও কোন ব্যবস্থা না নেয়া,উত্তর না দেয়াকে ভয়ের কারন হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগী।

উল্লেখ্য,গত ২১ তারিখ বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিমের বিরুদ্ধে একজন তরুণী ধর্ষণ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলাটি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় রুজু হয়।

ধারা [৯(ক)২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩ তৎসহ পেনাল কোড১৮৬০ ;বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, গর্ভপাত ঘটানো], স্মারক নম্বর – ২০৮৫(৫)/১।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় যে ‘ সাগরদীর শুক্কুর মিয়ার ছেলে ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন (৩৬) প্রথম ধর্ষণ করে জোরপূর্বক ১০/০২/২০১৯ সালে। এরপর থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বারবার ধর্ষণ করেছেন তিনি। এই বিষয়ে কাওকে না জানাতে চাপও সৃষ্টি করেছেন তিনি। ‘ যদিও প্রেমের সম্পর্ক ২০১৩ সালের দিকে থেকে ছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও জসিম উদ্দিন দুজনই।
এরপর সর্বশেষ ধর্ষণের তারিখ উল্লেখ করা হয় এজাহারে ৫/৩/২০২১ রাত ১১ টার দিক থেকে শুরু করে ভোররাত পর্যন্ত । সেখানে বলা হয়, ওই রাতেই জসিম উদ্দিন তিনবার ধর্ষণ করেছেন এবং বিয়ে করবেন দুএকদিনেই এমনটাই প্রতিশ্রুতিও দিতে থাকেন। অথচ, ভোররাতে আলো ফোটার আগেই পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দেন জসিম। এরপর টালবাহানা শুরু করায় সন্দেহ বাড়তে থাকে বাদীর। এক পর্যায় জসিমের বাড়ি গিয়ে উঠলেও সেদিন জসিম পালিয়ে যায়। এরপর দুদিন পর জসিম অন্যত্র বিয়ে করায় দিশেহারা হয়ে পড়েন মামলার বাদী।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাইদুল জানান ‘ মামলার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছি। জসিমকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাতে প্রস্তুতি চলছে। ‘

মামলাটির বেশ কয়েকদিন পার হয়েছে এবং বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নিরবতা প্রশ্ন সৃষ্টি করছে।