দেশের অনেক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ ছাত্র আন্দোলনের নেপথ্যে কারা?

ফেব্রুয়ারি ২৬ ২০২১, ০৮:২৭

Spread the love

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন চলছে দেশের অনেক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে। হঠাৎ করে শিক্ষাঙ্গনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরির পেছনে কারো মদদ রয়েছে কিনা সে বিষয়ে খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থা। পরীক্ষা গ্রহণ, শিক্ষাঙ্গন ও ছাত্রাবাস খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন, রাস্তা অবরোধ করছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এমন দাবি ও আন্দোলন রীতিমতো আত্মঘাতী। এর আগের নিরাপদ সড়ক, কোটা বিরোধী আন্দোলনের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি করতে চায় এই মহল। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এই ধরনের তথ্যের উল্লেখ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে হঠাৎ করে ছাত্র আন্দোলেনের পেছনে কোন বড় অপশক্তির হাত রয়েছে। অতীতে কোটা বিরোধী আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে অশুভ শক্তির উস্কানি ও মদদ দেয়ার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরইমধ্যে সরকার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়ে পরীক্ষা গ্রহণ, শিক্ষাঙ্গন ও ছাত্রাবাস খুলে দেয়ার দাবিতে দেশে নৈরাজ্যকর ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ওঠে আসে।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কাতারভিত্তিক টেলিভিশন আলজাজিরা ও বিদেশী মিডিয়ার অপপ্রচার চালানোসহ সাম্প্রতিক সরকার বিরোধী যে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে, সেই ষড়যন্ত্রের একটি অংশ এই ছাত্র আন্দোলন হতে পারে। বিএনপির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন, দেশীয় আরেক বড় অপশক্তি জামায়াতের ষড়যন্ত্র এবং শিক্ষাঙ্গন ও ছাত্রাবাস খুলে দেয়ার দাবিতে যে আন্দোলন সবগুলো একই সূত্রে গাথা কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বিভিন্ন ধরণ তুলে ধরা হচ্ছে। প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। সরকার তাদের দাবি মেনে নেয়ার পরই আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনের চেষ্টা করছে। এদিকে যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ওপর নির্ভরশীল এবং আবাসিক হলে থাকে তারা এখন অস্থির হয়ে উঠেছে। তারা এখন হল খোলার দাবিতে আন্দোলন করছে। আবার কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় ছাত্ররা জানান, যে কোনো সময় তাদের আন্দোলন প্রকাশ্যে আসতে পারে। যারা বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চান তারা আবার মনে করছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো না খুললে বা লাইব্রেরিগুলো না খুললে তাদের বিসিএসের প্রস্তুতি ভালো হচ্ছে না। সেদিক থেকে আন্দোলনের এক শঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে সরকার বলছে, করোনাকালীন মূহুর্তে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাস খুলে দিয়ে কোমলমতি ছাত্রদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারি না। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক হল খুলে দিলে সেখানে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়িত্ব কে নেবে। সরকারের একাধিক মহল মনে করছে যে, হঠাৎ করে ছাত্র আন্দোলনের পেছনে অন্য কোন অপশক্তির কারসাজি রয়েছে। কারো উস্কানিতে শিক্ষার্থীরা এই অযৌক্তিক দাবিতে মাঠে নেমেছে।

ইতোমধ্যে সরকার ঈদ-উল-ফিতরের পর ২৪ মে থেকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে সাড়া দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করে একাডেমিক পরীক্ষা স্থগিত করেছে। সরকারে এমন সিদ্ধান্ত মানছে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা খুব শীঘ্রই হল খোলার দাবি জানান। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর আবাসিক হলে ওঠার দাবিতে ইতোমধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল খোলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়েছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান নিশ্চিত করবে ১৭ মে’র পূর্বে। শিক্ষামন্ত্রীও একথা বলেছেন। সে কারণে ১৭ মে থেকে শিক্ষার্থীদেরকে আবাসিক হলে ওঠানোর উদ্যোগ নেবে। প্রথম ডোজের চার সপ্তাহ পরে শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারে। ১৭ এপ্রিলের মধ্যে যাতে সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে টিকা প্রদান নিশ্চিত করা হয়, আমরা সে অনুরোধ করেছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তাারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত আলটিমেটামের মধ্যে যদি হল খুলে না দেয়া হয় তবে তারা পরবর্তী কর্মসূচী গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচারের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেছে। এদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের তি দফা দাবিতে এখনও অনড় রয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল খুলে দিতে পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে । বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আটকে থাকা রুটিন পরীক্ষাগুলো দিতে চান শিক্ষার্থীরা। তা না হলে তারা দীর্ঘ সেশনজটে পড়বে। এমনই অনেক কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বলে জানা যায়।