ববি’র শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

ফেব্রুয়ারি ২১ ২০২১, ০৯:৩২

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার॥ সড়ক অবরোধ তুলে নিলেও দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

আজ রবিবার সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী অমিত হাসান রক্তিম জানান, প্রশাসনের সাথে বৈঠকে আমারা আমাদের তিন দফা দাবি পুনরায় তুলে ধরেছি। সেখানে দুটি বিষয়ে আশ্বস্ত হলেও একটি বিষয়ে কোন সুরাহা হয়নি। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা রূপাতলী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপনসহ কয়েকজনের নাম বলেছি। যাদের নাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসেনর দায়ের করা মামলায় এখনও অর্ন্তভূক্ত করা হয়নি। তাদের নাম অর্ন্তভূক্ত করে গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মামলায় হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও শিক্ষার্থীদের মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো আনতে হবে। শিক্ষার্থীদের এ দাবির কথা বৈঠকে তুলে ধরা হলেও সে বিষয়ে কেউ কোন সুনির্দিষ্ট সুরাহা দেয়নি। তিনি আরও জানান, আমরা আশ্বাস নয়; চাই মুল হামলাকারীদের গ্রেফতার।

হামলায় আহত শিক্ষার্থী আলিম সালেহী বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারির কথা চিন্তা করে শনিবার সন্ধ্যায় আমরা সড়ক অবরোধ তুলে নিলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন কর্মসূচী চলবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাহামুদুল হাসান তমাল জানান, প্রশাসন অনেকটাই গা ছাড়া ভাব দেখিয়েছে, সেজন্য আমাদের মৌলিক অধিকারের জায়গা থেকে আন্দোলন করতে হচ্ছে। সড়ক অবরোধের কারনে জনগনের যে ভোগান্তি হচ্ছে তার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। এছাড়া আমাদের কিছু করার নেই বলেও তিনি (তমাল) উল্লেখ করেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোকতার হোসেন জানান, ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অজ্ঞাতদের আসামি করে যে মামলা করেছে তা তদন্ত করে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অধিকতর তদন্তে হামলার সাথে জড়িত যাদের নামই আসবে তাদের গ্রেফতার করা হবে।

ববি’র উপাচার্য ড. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, শিক্ষার্থীরা তিন দফাসহ যে দাবিগুলো করেছে তা মানা হয়েছে এবং হচ্ছে। আমি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য আহবান জানিয়েছি। তারা বিষয়গুলো বুঝতে পেরেছে বলে মনে করছি। আশাকরি তারা ধৈর্য্য ধারণ করবে এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে রূপাতলী বিআরটিসি বাস কাউন্টারে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে। এরপর ওইদিন দিবাগত গভীর রাতে রূপাতলী হাউজিং এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মেসে পরিবহন শ্রমিকরা হামলা চালায়। এতে ১১ শিক্ষার্থী গুরুত্বর আহত হয়। হামলার প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা।