বাউফলে দলিল নিবন্ধনে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

অক্টোবর ২৬ ২০২০, ০৯:৪০

Spread the love

বিশেষ প্রতিনিধি :: বাউফল সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ আদায় আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ষ্ট্যাম্প ফি শতকরা দেড় টাকা, নিবন্ধন ফি ২ টাকা ও স্থানীয় কর ৩ টাকা । পৌর এলাকার জমির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১ টাকা উৎস কর দিতে হয়। সব মিলিয়ে জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শতকরা সাড়ে ৬ টাকা এবং পৌর এলাকার জন্য সাড়ে ৭ টাকা নির্ধারিত ফিস।
কিন্তু বাউফল সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শতকরা ১০ থেকে ১১ টাকা পর্যন্ত ফি নেয়া হয়। দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দালাল শ্রেণীর দলিল লেখকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘চর ব্যারেট মৌজায় আমি দেড় একর জমি ক্রয় করি। মালিককে প্রায় ২ বছর আগে জমির মূল্য পরিশোধ করেছি। সম্প্রতি দলিল নিবন্ধনের জন্য বাউফল সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে যাই। দেড় একর জমি আমি ১ লাখ টাকায় ক্রয় করেছি। দলিল লেখক আমার কাছে নিবন্ধন করার জন্য ১৭ হাজার টাকা দাবী করেন।’
কাছিপাড়া ইউনিয়নের রহিম হাওলাদার নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী দলিল নিবন্ধন করতে হলে সকল পর্যায়ের ফিস সোনালী ব্যাংকে পে-অর্ডার এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। একজন গ্রহীতা নিজে পে অর্ডার কেটে ফিস পরিশোধ করবেন। কিন্তু বাউফলে দলিল লেখকরা গ্রহীতার কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করে ব্যাংকে ফিস পরিশোধ করেন। সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দালাল হিসেবে পরিচিত কতিপয় দলিল লেখক সাধারন মানুষকে অন্ধকারে রেখে অতিরিক্ত নিবন্ধন ফিস আদায় করছেন।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দলিল লেখক বলেন, সরকার নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা দেয়ার পর অতিরিক্ত টাকা সাব রেজিষ্ট্রার ও অফিসের কর্মচারীদের দিতে হয়। টাকা না দিলে নানা ছুতোঁয় দলিল নিবন্ধন আটকে দেয়া হয়। অনেক সময় টাকার জন্য দলিল লেখকদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। সচেতন কোন গ্রহীতা চাইলেও নিজে পে-অর্ডারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে ফিস জমা দিতে পারেন না। দলিল লেখক সিন্ডিকেটের ইচ্ছায় সব করতে হয়।
অবশ্য অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবদুল খালেক বলেন, ‘আমরা গ্রহীতাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত নিবন্ধন ফি নেই।’
এ প্রসঙ্গে বাউফলের সাব রেজিষ্ট্রার হাফিজা হাকিম রুমা বলেন, ‘নিবন্ধন ফি লেনদেনের বিষয়টি গ্রহীতাদের সঙ্গে দলিল লেখকরা করেন। সুতরাং এখানে অফিসের কাউকে জড়ানো ঠিক নয়। যদি কোন দলিল লেখক অতিরিক্ত টাকা নেয় সেক্ষেত্রে ভুক্তভোগী গ্রহীতারা আমার কাছে অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’