বরিশালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে ছড়ানো ছিটানো সরকারী ঔষধ

অক্টোবর ১২ ২০২০, ০৯:১১

Spread the love

॥ সাধারণ রোগীদের ঠিকমত ঔষধ বিতরণ না করে জেলার গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে সরকারী ঔষধ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) সিনিগ্ধা রায়ের বিরুদ্ধে।
সরেজমিন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে রবিবার ঔষধগুলো দেখা গেলেও পরবর্তীতে তা অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সরকারী ঔষধগুলো এভাবে যত্রতত্র ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় জনমনে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
টাকা ছাড়া মেলেনা ঔষধ ঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীরা জানিয়েছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে স্যাকমো সিনিগ্ধা রায় ঔষধ বাবদ টাকা আদায় করেন। টাকা না দিলে ঔষধ নেই বলে জানিয়ে দেয়া হয় রোগীদের। অপর এক স্বাস্থ্য কর্মী জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্বরত স্যাকমো সিনিগ্ধা রায় নিয়মিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসেন না। কোনদিন সকাল দশটার মধ্যে অফিসে আসলেও আবার সাড়ে বারটার মধ্যে চলে যান। এমনকি রোগীদের ঔষধপত্রও ঠিকমত প্রদান করেন না। তারা আরও জানিয়েছেন, ঔষধগুলো আগে থেকে ফিল্ড কর্মীদের দেয়া হলে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করতে পারতেন।
এবিষয়ে সাব এ্যাসিট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সিন্ধা রায় জানান, ঔষুধগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ফেব্রুয়ারী মাসে। তিনি আরও জানান, এক খালারে কাগজ পোড়াইতে দিছিলাম। খালায় কাগজ পোড়াইছে আর ঔষধগুলো ওখানে ফেলে রাখছে। সেটা আমার চোখে পরলে হয়তো সরাইতাম। সরকারী ঔষধের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে করনীয় কি? জানতে চাইলে সেটা তার জানা নেই বলে উল্লেখ করেন।
এবিষয়ে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ সাইয়্যেদ মোঃ আমরুল্লা জানান, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে এভাবে সরকারী ঔষধ ছড়িয়ে রাখার সুযোগ নেই। যদি ঔষদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তবে সে আমাকে জানাবে। তারপর সিভিল সার্জন কে জানিয়ে এগুলো ধ্বংস করতে হবে। কিন্তু সে আমাকে কিছুই জানায়নি। তিনি আরও বলেন, স্যাকমো সিনিগ্ধা রায় নিয়মিত অফিস করেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আট মাস অনুপস্থিত ডাক্তার ঃ আট মাসে আট দিনও অফিস না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাটাজোর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ডাঃ শুভ্রা দাসের বিরুদ্ধে। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ ইউনিয়নের সাধারণ রোগীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখ এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে যোগদান করেন ৩৯তম বিসিএসের চিকিৎসক শুভ্রা দাস। এরপর কয়েকদিন চিকিৎসা সেবা প্রদান করলেও গত মার্চ মাস থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি।
এবিষয়ে ডাক্তার শুভ্রা দাস জানান, তার বাড়ী চট্টগ্রামের রাউজানে। তিনি একজন আনমেরিড। একা এখানে তার থাকা সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি আরও জানান, গত জানুয়ারী মাসে তার জন্ডিস ধরা পরার পর তিনি কয়েক মাস অসুস্থ ছিলেন। তিনি অন্যত্র বদলির জন্য আবেদন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। এবিষয়ে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ সাইয়্যেদ মোঃ আমরুল্লা জানান, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।