বাউফলে একপক্ষের হামলায় অপর পক্ষের যুবলীগ নেতাসহ নিহত-২

আগস্ট ০৩ ২০২০, ০৩:৪৯

Spread the love

বিশেষ প্রতিনিধি, বাউফল ।। বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একপক্ষের হামলায় অপর পক্ষের যুবলীগ নেতাসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতের স্বজনরা এ হামলার জন্য বাউফল থানার ওসির দায়িত্বহীনতাকে দায়ি করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ সালেহ উদ্দিন পিকু এবং সাধারণ সম্পাদক ও ওই ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন লাভলুর মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে আভ্যন্তরীণ বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে সালেহ উদ্দিন পিকুর ছোট ভাই ওই ইউপির যুবলীগের সহ-সভাপতি রুমন তালুকদার (৩০) ও তার চাচাতো ভাই যুবলীগ কর্মী ইসাত (২৪) কেশবপুর বাজারে নবী আলীর দোকানে বসে চা পান করছিল। এসময় মহিউদ্দিন লাভলুর সমর্থক রফিক, রাসেল, ইব্রাহিম, নুরুর নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন সসস্ত্র লোক তাদের উপর হামলা করে এবং এলোপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। এপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রাত সারে ৮টার দিকে বাউফল হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষনা করেন। এ ঘটনার আগে গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে এই দুই পক্ষের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালেহ উদ্দিন পিকুর এক ভাইসহ উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হন। এ ঘটনায় শনিবার সালেহ উদ্দিন পিকুর স্বজনরা থানায় মামলা করতে গেলে বাউফল থানার ওসি মামলা গ্রহণ করেননি।

সালেহ উদ্দিন পিকুর ছোট বোন অনি অভিযোগ করেন, বাউফল থানার ওসি ওই দিন মামলা নিলে জোড়া খুনের ঘটনা নাও ঘটতে পারতো। মামলা না নিয়ে ওসি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, এমপি আসম ফিরোজ সমর্থীত কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ও ওই ইউপির চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন লাভলুর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে আভ্যন্তরীণ বিরোধ চলে আসছে। একাধিকবার উভয় পক্ষের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। কিন্তু এ বিরোধ নিষ্পত্তি করতে দলের উপজেলা পর্যায়ে কোন নেতা হস্তক্ষেপ করেননি। ফলে এই বিরোধ চলমান ছিল। আর এর জের ধরেই এই জোড়া খুন সংঘটিত হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত তাহের, নুরুসহ ৪ জনকে আটক করেছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য সোমবার সকালে পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।