বাউফলের সাংবাদিক মিজানকে হত্যা মামলাথেকে অব্যাহতির দাবিতে পাথরঘাটায় মানববন্ধন

জুন ১১ ২০২০, ১১:০০

Spread the love

 

 

 

পটুয়াখালীর বাউফলে আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী তাপস কুমার দাসহত্যা মামলায় প্রথম আলোর বাউফল প্রতিনিধিএবিএম মিজানুর রহমানকে আক্রোশ ও হয়রানিমূলক আসামি করার প্রতিবাদে ও মামলাথেকে তাঁকে অব্যাহতির দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার পাথরঘাটায় মানববন্ধন হয়েছে।

 

পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আজ বেলা১১টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে পাথরঘাটা প্রেসক্লাবেরসামনের সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিতহয়। এতে স্থানীয় সাংবাদিক, আইনজীবী,ক্রীড়াবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশনেন।

 

পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তরপ্রতিনিধি গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর সভাপতিত্বেমানববন্ধনে বক্তৃতা করেন প্রথম আলোরপাথরঘাটা প্রতিনিধি আমিন সোহেল, পাথরঘাটাপ্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সমকালপ্রতিনিধি ইমাম হোসেন, ভোরের কাগজ প্রতিনিধিঅমল তালুকদার, মানবজমিন প্রতিনিধি জাকিরহোসেন খান প্রমুখ।

 

বক্তারা তাপস হত্যা মামলায় মিজানকে আক্রোশ ও হয়রানিমূলক আসামি করায় তীব্র ক্ষোভ ওনিন্দা প্রকাশ করেন।

পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফাচৌধুরী বলেন,‘ঘটনার সময় অন্যান্য সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যার ভিডিও সাংবাদিক ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে সংরক্ষনে আছে। অথচ ওই হত্যা মামলায় সাংবাদিক মিজানকে আসামি করা হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি স্বরুপ।বক্তারাঅবিলম্বে মামলা থেকে সাংবাদিক মিজানকেঅব্যাহতি দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতিঅনুরোধ করেন।’

তিনি আরও বলেন,ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদেরশনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।পাশাপাশি সাংবাদিক মিজানসহ নিরপরাধ কেউযেন এই মামলায় হয়রানির শিকার না হন, তাদেখার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি করছি।

সাংবাদিক ইমাম হোসেন বলেন,‘সাংবাদিক মিজান সরকারের প্রভাবশালী মহলের বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় এর আগেও চাঁদাবাজি, ছিনতাই, লুট, মারামারি ও ধর্ষণসহ হয়রানিমূলক ছয়টি মামলায় আসামি করা হয়েছিল। যা সবই মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। এবার তাঁর কলম থামিয়ে দেওয়ার জন্য হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।

অমল তালুকদার বলেন,‘সাধারণ মুখপাত্র হিসেবেআমরা তাদের কথা তুলে ধরি। গণমাধ্যমে এ কথাতুলে ধরতে গিয়ে কারো বিপক্ষে যায়। এতে তারাসাংবাদিকদের শত্রু মনে করেন। তবে আমরাকারও শত্রু নয়, আমরা সাধারন মানুষের বন্ধু।তবে এ কাজ করতে গিয়েই সাংবাদিক মিজানপ্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। আমরা এহয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে মিজানুররহমানের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানাই।’

 

 

উল্লেখ্য ঈদের আগের দিন ২৪ মে, রোববার দুপুরেপটুয়াখালীর বাউফলে থানার পূর্ব পাশে জেলাপরিষদ ডাকবাংলোর সামনের সড়কের খালিজায়গায় বাউফল পৌরসভার উদ্যোগে করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে করনীয় বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা লেখা সংবলিত ব্যানারস্থাপন করা নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষেরকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় যুবলীগকর্মী তাপস কুমার দাস আহত হন।পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাতে মারা যান।তাপসের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলারকালাইয়া ইউনিয়নের কালাইয়া গ্রামে।

এ ঘটনায় ২৫ মে রাতে তাপসের বড় ভাই পঞ্চজ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়মী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক জুয়েল, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ রাহাত জামশেদসহ ৩৫ জনের নামে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় সাংবাদিক মিজানকে ২০ নম্বর আসামি করা হয়েছে।