গৌরনদীতে জাল জন্ম সনদে দলিল না করায় ছাত্রলীগের সুমনের সন্ত্রাসী তান্ডব

আগস্ট ২৬ ২০১৯, ১৭:০৫

Spread the love

 

জাল জন্ম সনদে দলিল সম্পাদন করতে রাজি না হওয়ায় গৌরনদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী। রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে হামলা ও ভাংচুর করেছে। হামলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সহকারি মো. শাহাদাত হোসেন (৪৫), অফিস সহায়ক এনায়েত হোসেন সরদার (৩০), দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. কাওছার হোসেন (৬০), দলিল লেখক সজল সরকারসহ (৩৫) ৫ জন আহত হয়েছেন। আহদের মধ্যে ৩ জনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সাব-রেজিস্ট্রার মুবাশ্বেরা সিদ্দিকা বাদী হয়ে সরকারি গৌরনদী কলেজের সাবেক ভিপি ছাত্রলীগ নেতা সুমন মোল্লা, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন সুজন ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মিলন খলিফাসহ সংগঠনটির ১০/১২ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে রবিবার রাতে গৌরনদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ আগস্ট দলিল লেখক কামাল হোসেন মিয়া ৭ জন দাতার নাম উল্লেখ করে আমার কাছে একটি দলিল দাখিল করেন। পর্যালোচনা করে দেখা যায় এর মধ্যে ৪ জনের জন্ম সনদ ভুয়া। এরপরও মামলার প্রধান আসামি সুমন মোল্লাসহ অন্যান্য আসামিরা দলিল সম্পাদনের জন্য আমাকে চাপ প্রয়োগ করে নানা ধরনের হুমকি প্রদান করে। বিষয়টি নিয়ে জাল-জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় আমি দলিলটি স্থগিত রেখে ওই দলিল লেখককে বহিষ্কার করি।

পরবর্তীতে আসামিরা ওই ৪ জনের জন্ম সনদ নিয়ে ২৫ আগস্ট (রবিবার) বিকেলে দলিলটি আমার কাছে দাখিল করে। সেখানেও জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পরে। এরপরও চাপের মুখে দলিলটি সম্পাদনের চেষ্টা চালায় সুমন মোল্লা, শাখাওয়াত হোসেন সুজন, মিলন খলিফাসহ অন্যরা। তারা অফিসের মধ্যে বসে আমার সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে। এ সময় দলিল লেখক সমিতির সভাপতি কাওছার হোসেনের সঙ্গে কথার কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা কাওছার হোসেনকে মারপিট শুরু করে।

অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারপিট করতে থাকে। তারা হাতুড়ি দিয়ে অফিস সহায়ক এনায়েত হোসেন সরদারের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। অফিসের কম্পিউটার ভেঙে ফেলে এবং মূল্যবান দলিলপত্র তছনছ করেছে বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা দলিল লেখক কাওছার হোসেন টেনে হেচড়ে অফিস থেকে বের করে অপহরণের চেষ্টা চালায়। তারা তার পড়নের জামা-কাপর ছিড়ে ফেলে। এ সময় টিটু কমিশনার ছাত্রলীগ নেতাদের কবল থেকে দলিল লেখক কাওছারকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর সেখানে পুলিশ পৌছে। ওইদিন সন্ধার পর পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শোনেন। সোমবার সকালে গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন