বরিশাল নগরীতে আলোচনায় ব্যানার ‘ওরা আওয়ামী লীগের কেউ নয়’

আগস্ট ২৫ ২০১৯, ১০:৫২

Spread the love

বরিশালে নদীবন্দর এলাকা বান্দ রোড ভাটার খাল সংলগ্ন একটি ভবনে লাগানো ব্যানার নিয়ে নগরীতে চলছে নানা আলোচনা। ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের জাতীয় শোক দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলির ব্যানারের নিচে লাগানো হয়েছে বিতর্কিত এ ব্যানারটি। এতে স্থানীয় চার আওয়ামী লীগ নেতার ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে ‘সতর্কীকরণ, এরা আওয়ামী লীগের কেউ নয়’। এ ব্যানারটিরও প্রচারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ। চার দিন আগে লাগানো এ ব্যানারটি দৃষ্টি কেড়েছে ওই সড়কে যাতায়াতকারীদের।

জানা গেছে, ওই চারজন আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মী। তার মধ্যে দু’জন মুক্তিযোদ্ধা। ‘৭৫-পরবর্তী আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের এক নেতাও আছেন এ চারজনের মধ্যে। ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে নেতৃত্বের বিরোধের জেরে ব্যানারটি লাগিয়েছে প্রতিপক্ষ।

ছবিতে থাকা এ চারজন হলেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন খোকন, মহানগর  হকার্স লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রফিক মেম্বার, ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জিলানী চৌধুরী এবং একই ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আবুল হোসেন।

এ চারজনের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইলে ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আহম্মেদ বলেন, ‘তারা দলের মধ্যে ভিন্ন মতাবলম্বী। সবসময় দলের ক্ষতি করে। দলের নির্দেশে ব্যানার লাগানো হয়েছে। শোকের মাস আগস্টের পরে তারা বহিস্কারদেশের চিঠি পেয়ে যাবেন।’

স্থানীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নিষ্ফ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে উল্লেখিত চার নেতা নিজেদের অনুসারী নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত সভা করতেন।

চারজনই এ অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ওয়ার্ডের সাধারণ নেতাকর্মীদের যোগাযোগ নেই। তাই ওয়ার্ডের সক্রিয় কর্মীরা জাতীয় শোক দিবস পালন নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা করায় তাদের এভাবে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন খোকন বলেন, ‘ওয়ার্ডের সাধারণ নেতাকর্মীরা শোক দিবস পালনের জন্য আমার কাছে এসেছিল। এটাই আমার অপরাধ। বৃদ্ধ বয়সে দল থেকে যে পুরস্কার পেয়েছি তাতে গলায় দড়ি দিয়ে মরতে ইচ্ছা করে।’

অপর মুক্তিযোদ্ধা হকার্স লীগের সভাপতি রফিক মেম্বার বলেন, ‘৭৫’ ট্র্যাজেডির পরের দুঃসময়ে দলের জন্য শ্রমিক রাজনীতি করেছি। শেষ বয়সে এসে এভাবে অপমান হতে হবে জানলে কোনো দিন রাজনীতি করতাম না।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জিলানী চৌধুরী বলেন, ওয়ার্ড কমিটি গঠন হয়েছে ১৯৯৮ সালে। তখন থেকে দলের এ পদে আছি। তিন দিন আগে ব্যানার লাগিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আমি নাকি আওয়ামী লীগের কেউ নই। একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আবুল হোসেন।

এ প্রসঙ্গে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবীর প্রিন্স বলেন, ‘আমি ব্যানার দেখিনি। শুনেছি নগর আওয়ামী লীগের সুপ্রিম কমান্ডের নেতার নির্দেশে ব্যানারটি লাগানো হয়েছে।’

দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এভাবে প্রকাশ্যে আনার বিষয়টি জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী নঈমুল হোসেন লিটু বলেন, বিষয়টি জানা নেই। এটি সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক বলতে পারবেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ের সমস্যা ওয়ার্ড নেতারাই ভালো বলতে পারবেন। তাদের (নগর আওয়ামী লীগ) এ বিষয়ে জানানো হয়নি। কাউকে বহিস্কারও করা হয়নি। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন।